বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মাতাবেন যাঁরা

১৪ জুন বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে রাশিয়া ও সৌদি আরব। তার ঘণ্টা দুয়েক আগেই মস্কোর লুঝনিক স্টেডিয়ামে হবে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। আর সেই অনুষ্ঠান মাতাবেন গ্লোবাল মিউজিক আইকন রবি উইলিয়ামস।

তার সঙ্গে যোগ দিবেন রাশিয়ার তরুণ সপরানো শিল্পী আইদা গারিফুলিনা। বিশ্বকাপের মহিমা বর্ণনায় থাকবেন ব্রাজিলের হয়ে দুইবার (১৯৯৪ ও ২০০২) বিশ্বকাপ জয়ী তারকা রোনাল্ডো।

পপ সঙ্গীত জগতের সুপারস্টার রবি উইলিয়ামসও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকতে পেরে যারপরনাই উচ্ছ্বসিত, ‘এমন একটি ইউনিক পারফরম্যান্সের জন্য রাশিয়া পুনরায় যেতে পেরে আমি খুবই খুশি ও উচ্ছ্বসিত। আমার গোটা ক্যারিয়ারে আমি অনেক কিছু করেছি। অনেক জায়গায় গেয়েছি। কিন্তু ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাঠে উপস্থিত ৮০ হাজার দর্শক ও টেলিভিশনের সামনে বসা মিলিয়ন মিলিয়ন দর্শকের সামনে পারফর্ম করতে পারাটা ছিল আমার শৈশবের স্বপ্ন। আমি ফুটবল ও সঙ্গীত ভক্ত-অনুরাগীদের আমন্ত্রণ জানাবো যে রাশিয়া আসুন। একসঙ্গে স্টেডিয়ামে পার্টি হবে। যারা স্টেডিয়ামে আসতে পারবেন না তারা একটু আগে-ভাগে টিভি সেট চালু করে রাখুন অবিস্মরণীয় শো দেখতে।’

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অন্যান্য বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের চেয়ে একটু ভিন্ন ঘরনায় হবে। এবার সঙ্গীতায়জনের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। লম্বা সময় ধরে হবে গান-বাজনা। যা চলবে ম্যাচ শুরু হওয়ার আধঘণ্টা আগ পর্যন্ত। স্থানীয় দর্শকদের মাতাবেন রাশিয়ান তরুণ শিল্পী আইদা গারিফুলিনা। তবে আয়োজক দেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি-কালচার, ইতিহাস-ঐহিত্য তুলে ধরার বিষয়টি একই থাকবে।

উচ্ছ্বসিত আইদা গারিফুলিনা বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি যে বিশ্বকাপের মতো একটি ইভেন্টের অংশ হতে পারব যেটা আমার নিজ শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিশাল একটি স্বপ্ন সত্যি হতে যাচ্ছে।’

ব্রাজিলের হয়ে দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ী রোনাল্ডো বলেন, ‘বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করতে পারাটা সব সময়ই আবেগের বিষয়। অনেক অনেক কঠোর পরিশ্রমের পর হঠাৎ করে গোটা বিশ্ব আপনার উঠোনে হাজির হয়, ফুটবলের জন্য ভালোবাসা ও আবেগ প্রকাশ করতে। চার বছর আগে হওয়া ব্রাজিল বিশ্বকাপ এখনো আমি অনুভব করি। বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা রাশিয়ানদের সঙ্গে ভাগাভাগি করার সুযোগ পেয়ে আমি যারপরনাই আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ সব-সময় প্রতিকী হয়ে থাকে। আসলে এটা সেই মুহূর্ত যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারেন যে এমন একটি মুহূর্তের জন্য একজন খেলোয়াড় হিসেবে, একজন ফুটবলপ্রেমী হিসেবে চার-চারটি বছর অপেক্ষা করেছেন। অবশেষে সেটা মাঠে গড়াচ্ছে। কেউ জানে না আসলে এই চার সপ্তাহে কী ঘটতে যাচ্ছে। তবে এটা যে স্মরণীয় হতে যাচ্ছে সেটা কিন্তু নিশ্চিত।’