১৯, জুন, ২০১৮, মঙ্গলবার

সব ঋতুতে একই পোশাক! গত ত্রিশ বছর ধরে এভাবেই চলছেন মমিনুল পাগলা

আপডেট: জুন ১১, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
সব ঋতুতে একই পোশাক! গত ত্রিশ বছর ধরে এভাবেই চলছেন মমিনুল পাগলা

ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ । গ্রীস্ম,বর্ষা,শরৎ,হেমন্ত,শীত ও বসন্ত । সব ঋতুতে একই পোশাক। মাথায় মানকি টুপি,গায়ে-ট্রি শার্ট। তার ওপরে জ্যাকেট। এভাবেই গত ত্রিশ বছর ধরে চলছেন দিন মজুর মমিনুল ইসলাম।

সমাজের আট-দশজনের মত জীবন-যাপন করলেও তার পোশাকের চলনটা ভিন্ন। তার পোশাকের সঙ্গে মানিয়েছে মাথার চুল ও দাঁড়ি-গোফ । তাই এলাকায় তিনি এক ভিন্ন মানুষ। খাওয়া দাওয়ায় রয়েছে ভিন্নতা। যেখানে সমাজের আট দশজন মানুষ মাছ মাংস ভাত খায়। সেখানে তিনি সবজি ভাত খেয়ে জীবন-যাপন করছে মমিনুল ইসলাম।

একেক মানুষের রুপ একেক রকম। এই সমাজেই মানুষের কত না বিচিত্র রকমের শখ থাকে। মানুষের জীবনে চাওয়া পাওয়া ও শখের কোন শেষ নেই। সমাজে বেশিরভাগ মানুষ সাধারণ ভাবে জীবন-জীবিকা নিরবাহ করে। একেক মানুষ একেক পেশায় নিযুক্ত। একটি মানুষ যখন শখ করে বড় বড় দাঁড়ি-গোফ রেখে সমাজের সব খানেই চলাচল করে এঠাই স্বভাবিক।

গত এক সপ্তাহে ধরে প্রখর রৌদ্র ও প্রচন্ড গরমে সাধারণ মানুষ যখন কাহিল হয়ে পড়েছে। তখন এই মানুষটি জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রখর রৌদ্রে বড় বড় দাঁড়ি-গোফ ও গায়ে জ্যাকেট এবং মাথায় শীত নিবারণের সেই মানকি টুটি নিয়ে চলাচল করছে এটা অবিশ্বাস্য হলেও ঘটনাটি একেবারে সত্যি ।

রোববার জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রখর রোদে মধ্যেই দেখা মেলে মমিনুল ইসলামের। কথা হয় তার সাথে । পড়ে সেই আদ্ভুত মানুষটির সঙ্গে আলাপ করে মজার মজার তথ্য বেড়িয়ে আসল। মমিনুলের বাড়ী হল কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের সীমান্ত ঘের্ষা গজেরকুটি গ্রামের মৃত আছরউদ্দিনের ছেলে মমিনুল ইসলাম পাগলা (৬০)। পেশায় দিনমজুর। তার পাঁচ ছেলে দুই মেয়ে। মেয়ে দুটির অনেক কষ্টে বিয়ে দিয়েছেন। পাঁচ ছেলের সবাই স্কুলে পড়ে। প্রথম ছেলে সামনে এসএসসি পরীক্ষা দিবে। দ্বিতীয় ছেলে দশম শ্রেণীতে,তৃতীয় ছেলে,৬ষ্ট শ্রেণীতে,চতুর্থ ছেলে চতুর্থ শ্রেণীতে,পঞ্চম ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে।

মমিনুল পাগলা অনেক কষ্ঠে দিনমজুরের কাজ-কাম করে খেয়ে না খেয়ে পাঁচ ছেলের পড়ালেখার খরচসহ পরিবারের সাত সদস্যের সংসারের ঘাঁনি টানছে। মমিনুলের প্রথম ছেলে ছামিউল সংসারের সহযোগিতার জন্য মানুষের বাড়ীতে মাঝে মধ্যে দিনমজুরের কাজ করে। পোশাকের মধ্যে একটি লুঙ্গী,একটি টি শাট,একটি জ্যাকেট,একটি মানকি টুপি,একজোড়া শ্যান্ডেল । তিনি মাসে একদিন গোসল করে। নিজের খাবার নিজেই রান্না করে খাই। কারো রান্না তিনি খান না। এমনকি নিজের স্ত্রী হাতের রান্নাও খাননা ! তিনি জানান,ত্রিশ বছর ধরে নিরামিষ খাবার খাচ্ছি। কোন মাংসও তিনি খাননা,এমনকি মাছ,সুটকি,ডিম কিছুই খেতেন না। শুধু মাত্র দু-বেলা নিরামিষ খেয়ে বেঁচে আছেন। মমিনুলের অদ্ভুদ চেহেরা দেখে গ্রামের অনেক মানুষেই তাকে পাগলা বলে তিরুস্কার করে।

মমিনুল ইসলাম জানান,মুই ত্রিশ বছর ধরে একই পোশাকে আছং মোর কোন চলাফেরা করতে সমস্যা হয় না। সাধনা শুধুই মুই আল্লাহর নাম করে চলং। বারো মাসেই এভাবেই মুই চলং। আল্লাহর কৃপায় মোর কোন সমস্যা নেই । মোর একটু সমস্যা আছে সেটা হল মুই গরীব মানুষ। দিন মজুরের কাজ করে সাত সদস্যের সংসারের ঘানি টানা খুবেই কষ্টকর। সরকার যদি মোক অনুদান দিত তাহলে মোর সংসারে কিছুটা শান্তি ফিরে আসত।

এ ব্যাপারে গজেরকুটি ওয়াডের ইউপি সদস্য এরশাদুল হক জানান,মমিনুল কোন পাগল নয়। সে বড় বড় দাঁড়ি-গোফ ও একই পোশাকে ত্রিশ বছর ধরে জীবন-যাপন করায় তাকে গ্রামে কিছু লোক তিরুস্কার করে পাগল বলে ডাকে। তবে তিনি খুবেই গরীব। অনেক কষ্টে দিন মজুরের কাজ করে খেয়ে না খেয়ে সাত সদস্যের সংসার চালায়। আগামী অর্থ বছরের নতুন কোন অনুদান আসলে তাকে দেওয়া হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন