১৬, অক্টোবর, ২০১৮, মঙ্গলবার

খুব সহজেই যেভাবে জানবেন আপনি গর্ভবর্তী কিনা

আপডেট: মে ৩১, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
খুব সহজেই যেভাবে জানবেন আপনি গর্ভবর্তী কিনা

গর্ভধারণ সৃষ্টিকর্তার অসীম করুণা, যদি আপনার কাছে তা কাঙ্খিত হয়। আবার অনেকে অনাকাঙ্খিতভাবেও গর্ভধারণ করেন। কিন্তু কিভাবে বুঝবেন আপনি গর্ভবর্তী কি না? আপনার পিরিয়ড মিস হওয়ার কাছাকাছি সময়ে বা এক দুই সপ্তাহের মধ্যে গর্ভধারণের কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। গর্ভধারণের ৬ সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় ৬০ ভাগ নারীর গর্ভধারণের কিছু লক্ষণ দেখা দেয় এবং ৮ সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ নারী এসব লক্ষণ অনুভব করতে পারেন।

আপনি যদি পিরিয়ডের হিসাব না রাখেন অথবা আপনার পিরিয়ড যদি নিয়মিত না হয়, তবে আপনি হয়তো বুঝতে পারবেন না কখন পিরিয়ড হওয়া উচিত। এমন সময় আপনি হয়তো সময়মতো পিরিয়ড না হওয়ার কারণ নিয়ে চিন্তিত। তখন যদি আপনি নিচের কোন একটি উপসর্গ নিজের মাঝে দেখতে পান, তবে তা গর্ভধারণের লক্ষণ হতে পারে। নিশ্চিত হতে নিচের উপসর্গগুলো মিলিয়ে নিতে পারেন এবং বাসায় বসেই প্রেগন্যান্সি কিট দিয়ে টেস্ট করে নিতে পারেন।

স্তনের আকার পরিবর্তন
স্তন ফোলা, নরমভাব, ব্যথা বা আকার পরিবর্তন হওয়া হচ্ছে গর্ভবতী হওয়ার প্রথম লক্ষণ। গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন বা নিপল ফোলা, নরমভাব, ব্যথা বা আকার পরিবর্তনের কারণ হলো বাচ্চার দুধপানের উপযোগী হয়ে উঠা। এটা ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের বৃদ্ধির কারণে হয়ে থাকে।

বমিভাব
বমি বমিভাব মর্নিং সিকনেস বা সকালের অসুস্থতা হিসেবে পরিচিত। এটা দিনের যেকোনো সময় অথবা সারা দিনই হতে পারে। এটা গর্ভাবস্থায় শরীরে হরমোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে হয়ে থাকে। এই হরমোন হজোম পক্রিয়ায় প্রভাব ফলে। তাই বমিভাব, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং এসিডিটি দেখা দেয়। সাধারণত সংবেদনশীল ইস্ট্রোজেন নির্গত হওয়ার কারণে হয়।

অবসাদগ্রস্ত
প্রারম্ভিক গর্ভাবস্থা এমন একটা সময় যখন খুব কঠিনভাবে নারীদের শরীরিক ও হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এর মানে হরমোনের উৎপাদনের বেড়ে যায়। পাশাপাশি হার্টের ধুকপুকুনি দ্রুতগতিতে বেড়ে যাওয়া কারণে হৃদপিণ্ডে রক্ত ​​প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। ভ্রুণের বেড়ে উঠার জন্য এগুলো প্রয়োজন। প্রোজেস্টেরনের বৃদ্ধি অবসাদগ্রস্ত হওয়ার প্রথামিক ধাপ। আর অধিকাংশ গর্ভবতী নারী এটা তাদের প্রাথমিক গর্ভাবস্থায় সম্মুখীন হয়।

পিরিয়ড না হওয়া
গর্ভাবস্থার সব থেকে সাধারণ কারণ পিরিয়ড না হওয়া। আর এই প্রাথমিক লক্ষণই গর্ভবতী বলে ধারণা দেয়। একমাত্র পরীক্ষার মধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় গর্ভবতী কি না। আর এই দেরিতে বা পিরিয়ড না হওয়ায় যদি বলে দেয় গর্ভবতী, তবে পরবর্তী ধাপে ঋতুস্রাব বা অ্যামেনারিয়া অনুপস্থিতিতে এটি বোঝা যায়।

হালকা রক্তপাত হওয়া
শুরুর দিকে গর্ভাবস্থায় হালকা রক্তপাতের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ইমপ্লান্টেশন। এটা তখনই ঘটে থাকে যখন উর্বর ডিম্বানুগুলো জরায়ু লাইনে থেকে যায়। এটা সাধারণত গর্ভধারণের ১০ থেকে ১৪ দিন পরে ঘটে।

পেটে চাপ অনুভব
প্রারম্ভিক গর্ভাবস্থায় পেটে চাপ অনুভব হওয়া পিরিয়ডের সময় চাপ বেধে আসার মতোই। এটা তখনই ঘটে যখন ভ্রুণের বিকাশে স্থান তৈরিতে জরায়ুকে প্রসারিত করে।

গর্ভাবস্থায় শরীরে রক্তের পরিমাণ নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। এটা কিডনিকে অতিরিক্ত চাপ দেয়। এর ফলে ব্লাডারে অতিরিক্ত চাপ অনুভব হয়। যার কারণে বমি হয়। এ জন্য আমাদের পাকস্থলি খালি হয়ে যায়। অধিকাংশ নারীর এই সময়টা সামলে নিতে কষ্ট হয়। বমি বমিভাবের কারণে ক্ষুধা কমে যায়। কিছু খাবার অথবা ফলের গন্ধের জন্য বমি বমিভাব হতে পারে। এই সময় ঘন ঘন প্রসাব, বমি এবং অনেক ক্লান্তভাব দেখা দেয়। এজন্য অধিকাংশ নারীর এই সময়টা ঘুমের প্যার্টান পরিবর্তন হয়।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন