এলো ভেরা যে ভাবে রাতে মাত্র ৫ মিনিট ব্যবহার করলেই পাবেন ফর্সা, উজ্জল, দাগমুক্ত ত্বক

অ্যালোভেরা ত্বকের (skin) জন্য খুবই ভালো, এটি ত্বকে ময়েশ্চেরাইজারের কাজ করে। এটি ত্বকের ভেতরে পানির চেয়ে ৩-৪ গুন দ্রুত এবং প্রায় ৭ গুনের বেশি গভীরতায় ত্বকের (skin) ভেতরে প্রবেশ করে। এছাড়া এটি অনুজ্জ্বল ত্বককে সজীব ও উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। আসুন জেনে নেই ত্বকের যত্নে (skin czre) অ্যালোভেরার কিছু কার্যকরি প্রয়োগ:

মুখের দাগ দূর করতে:
ত্বকের(skin) যেসব জায়গায় দাগ আছে, এলোভেরার শাস বা জেল সেখানে সরাসরি প্রয়োগ করতে পারেন। রাতে ঘুমাবার আগে ত্বকের দাগগুলোতে জেলের মতো করে এলোভেরার শাস লাগান। সকালে উঠে যে কোন ফেসওয়াস দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

ত্বকের বলিরেখা কমাতে:
অ্যালোভেরা ত্বকের(skin) বলিরেখা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। অ্যালোভেরার সাথে মধু মিশিয়ে লাগালে ত্বকের অবাঞ্ছিত দাগ সহ বলিরেখা দূর হয়ে যায়।

মেছতা দূর করতে:
মেছতা দূর করার আরেকটি উপাদান হলো এলোভেরা বা ঘৃতকুমারী পাতার জেল। এই জেলের রয়েছে ত্বকের (skin) যাবতীয় সমস্যা দূর করার ক্ষমতা। আক্রান্ত স্খানে আঙুলের ডগার সাহায্যে ধীরে ধীরে জেল ঘষে লাগাতে হবে এবং সারা রাত লাগিয়ে রাখতে হবে।

এভাবে কয়েক সপ্তাহ লাগালে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে। এ ছাড়া অ্যালোভেরা জেলের সাথে ভিটামিন ই এবং প্রিমরোজ অয়েল মিশ্রিত করে লাগালে এক সপ্তাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যাবে।

চুলের (hair) যত্নে এলোভেরা
চুল: খুশকি দূর করতে মেহেদিপাতার সঙ্গে অ্যালোভেরা মিশিয়ে লাগাতে পারেন চুলে। মাথা যদি সব সময় গরম থাকে তাহলে পাতার শাঁস প্রতিদিন একবার তালুতে নিয়ম করে লাগালে মাথা ঠাণ্ডা হয়। অ্যালোভেরার রস মাথার তালুতে ঘষে এক ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন। চুল (hair) পড়া বন্ধ হবে এবং নতুন চুল গজাবে।

শ্যাম্পু করার আগে আধা ঘণ্টা অ্যালোভেরার রস পুরো চুলে (hair) লাগিয়ে রাখুন। শ্যাম্পু করার পর চুল থেকে হাত সরাতেই মন চাইবে না। ঘৃতকুমারী শরীরের ভীতরে যেমন কাজ করে তেমনী শরীরের উপরে ও ত্বক (skin) লাবন্যের রুপ চর্জায় বিশেষ কাজ করে। চুলের রুক্ষতা দূর করতে ঘৃতকুমারী

অতিরিক্ত রুক্ষ চুল (hair)থেকে রেহাই পেতে অনেকেই রঙ-চঙে বিজ্ঞাপনের পাল্লায় পড়ে ব্যবহার করেন নামি দামী ব্র্যান্ডের হেয়ার প্রোডাক্ট। আবার অনেকে শরণাপন্ন হন ডাক্তারের, কেউ যান পার্লারে। কিন্তু এত ঝামেলায় না গিয়ে বাসায় বসে একটু সময় বের করেই আপনি চুলের রুক্ষতা দূর করতে পারেন। তাও আবার সামান্য ঘরোয়া জিনিষপত্র দিয়েই।

কি, বিশ্বাস হচ্ছে না? তবে চলুন দেখে নেই চুলকে রেশমের মত মোলায়েম করে তোলার সহজ একটি হেয়ার মাস্ক।
অ্যালোভেরা (ঘৃতকুমারী) হেয়ার মাস্ক

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী খুব ভালো একটি ময়েসচারাইজার। যা শুধুমাত্র ত্বকের (skin) শুষ্কতা ও রুক্ষতাই নয়, দূর করে চুলের রুক্ষতাও। অ্যালোভেরার ব্যবহার চুলের (hair)রুক্ষতা দূর করে চুলকে করবে মসৃণ, কোমল ও উজ্জ্বল।

এই মাস্কটি তৈরি করতে আপনার লাগবে ৩/৪ টেবিল চা চামচ ঘৃতকুমারী জেল, দেড় টেবিল চামচ নারকেল তেল ও ৩ টেবিল চামচ টক দই। চুলের (hair) ঘনত্ব ও লম্বা অনুযায়ী পরিমাণ কম বা বেশি হতে পারে।

একটি পাত্রে সকল উপাদান একসাথে নিয়ে খুব ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরপর এই মিশ্রণটি চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগিয়ে নিন ভালো করে। ২০-৩০ মিনিট চুলে (hair)লাগিয়ে রাখুন মিশ্রণটি। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এবং একটি মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুল ধুয়ে নিন। প্রথম ব্যবহারেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন! সপ্তাহে ৩ বার এই মাস্কটি ব্যবহার করুন ভালো ফলাফল পেতে।

ঘৃতকুমারীর পাতা থেকে জেল বের করার নিয়ম
বাসায় ঘৃতকুমারীর পাতা থেকে খুব সহজেই জেল বের করে নিতে পারেন। প্রতিবার তাজা পাতা ব্যবহার করলে ফলাফল বেশি পাওয়া যাবে কিন্তু প্রয়োজনে এটা সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন পরবর্তীতে ব্যবহারের জন্য।

:: একটি ঘৃতকুমারী পাতা নিয়ে এর গোড়ার দিকের অংশ কেটে নিন। এরপর কাটা অংশটি নিচের দিকে ধরে রাখুন।
:: এতে করে পাতা থেকে হলদেটে একটি রস (juice) বের হবে। এই রসটি পুরোপুরি বের না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই ধরে রাখুন। তারপর হলদেটে রসটি ফেলে দিন।
:: হলদেটে রস (juice)পড়া বন্ধ হলে পাতাটি ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর পাতার দুইদিকের কাঁটা ভরা অংশ কেটে ফেলে দিন।

:: কাঁটা ফেলে দেবার পর পাতার সবুজ অংশ চেঁছে ফেলে দিন ও ভেতরের স্বচ্ছ জেলের মত অংশ সংরক্ষণ করুন। এটাই ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা জেল, যা আপনি ফেসপ্যাকে ব্যবহার করতে পারবেন।