১৯, আগস্ট, ২০১৮, রোববার

দুই সহপাঠির প্রেমের এ কেমন করুন পরিণতি!

আপডেট: আগস্ট ১০, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
দুই সহপাঠির প্রেমের এ কেমন করুন পরিণতি!

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রেমে টানাপোড়নের কারণেই তারা আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৯ আগষ্ট) সন্ধ্যায় গলায় ফাঁস দিয়ে ছাত্রী এবং অপরজন (ছাত্র) ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে মারা গেছেন।

জানা গেছে, রোকনুজ্জামান রোকন ও মুমতা হেনা আফরোজ নামের ওই দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের (মাস্টার্স) শিক্ষার্থী ছিলেন।

প্রেমের সম্পর্ক মেনে না নেয়ায় প্রথমে গলায় ফাঁসি দিয়ে মুমতাহেনা আত্মহত্যা করেন। পরে প্রেমিকার মৃত্যুর খবর শুনে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে রোকনও আত্মহত্যা করেন।

সহপাঠী সূত্রে জানা যায়, রোকনুজ্জামান রোকন ও মুমতা হেনা আফরোজ মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নিজেদের সম্পর্কে টানাপোড়নের কারণে হেনা গতকাল সন্ধ্যায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। প্রেমিকার এমন আত্মহত্যার কথা শুনে প্রেমিক রোকনও রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মতি মিয়া রেলগেইট নামক স্থানে শাটল ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুমতা হেনা আফরোজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আল- হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফুল ইসলামের মেয়ে। তার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার আশাশোনি উপজেলায় ও রোকনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলায়।

রোকন কুষ্টিয়ার পেয়ারাতলার একটি ছাত্রাবাসে থাকতেন। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) শেখ এমদাদুল হক এ বিষয়ে জানান, ‘গতকাল সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ঝিনুক টাওয়ারের পঞ্চম তলায় শয়ন কক্ষ থেকে ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস নেওয়া ইবি ছাত্রীর উদ্ধার লাশ করা হয়েছে। এখনো আত্মহত্যার কারণ জানা যায়নি, তদন্ত চলছে।’

কুষ্টিয়া পোড়াদহ জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আজিজ জানান, ‘পোড়াদাহ থেকে ছেড়ে যাওয়া গোয়ালন্দগামী শাটল ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে এক যুবক আত্মহত্যা করেছে। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলায়। লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমি গতকাল রাত ৮টার দিকে বিষয়টি জানতে পারি। আত্মহত্যাকারী দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। তবে হঠাৎ দু’জনই কি কারণে এমন আত্মহুতির সিদ্ধান্ত নিলেন সে বিষয়ে এখনও কোন স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।’

এদিকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ওই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম শাহিনুর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা।

শুক্রবার (১০ আগষ্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার রাশেদুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বার্তায় তারা এ শোক ও সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় তারা বলেন, রোকনুজ্জামান এবং হেনার পরিবারের সাথে আজ আমরাও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা শোকাহত ও ব্যথিত। জীবনে চলার পথে ঘাত-প্রতিঘাত এবং যে কেন সমস্যা আসতেই পারে। কিন্তু আত্মহত্যা কোন সমস্যার সমাধান হতে পারে না। এ ধরনের অকাল মৃত্যু কারো কাম্য নয়।

-বিডি২৪লাইভ

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন