তৃতীয় পক্ষের জন্য সংসার ভাঙছে শ্রাবন্তীর! কে সে জানেন?

একসময়ের জনপ্রিয় টিভি তারকা ইপসিতা শবনম শ্রাবন্তীর সংসারে ভাঙন ধরেছে। শ্রাবন্তীর স্বামী খোরশেদ আলম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। স্বামীর তালাকনামা পাঠানোর কথা জানিয়েছেন শ্রাবন্তী। তবে এখনো সেটি হাতে পাননি বলে জানান তিনি। শ্রাবন্তী ও খোরশেদ আলমের ঘরে রাবিয়াহ ও আরিশা নামের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। হঠাৎ কেন এই বিচ্ছেদের সুর, এ বিষয়ে গণমাধ্যমে খোলামেলা কথা বলেছেন জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী ইপসিতা শবনম শ্রাবন্তী।

তিনি বলেন, খোরশেদ আলম আমার বগুড়ার বাসার ঠিকানায় তালাক নোটিশ পাঠিয়েছেন। কিন্তু আমরা কেউ সেটা হাতে পাইনি। তবে আমার বোনকে তালাক নোটিশের ছবি তুলে পাঠিয়েছেন আলম। ঠিক কত দিন ধরে আপনাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছে? ২০১৭ সালের জুন থেকে। আর গত এপ্রিল থেকে আলমের সঙ্গে আমার কথা হয় না। অথচ কথা ছিল গত জুন মাস থেকে আমরা আবারও ঠিকমতো সংসার শুরু করব।

মনোমালিন্যের সূত্রপাত নিয়ে শ্রাবন্তী বলেন, ‘আমাদের সংসারে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে গিয়েছিল। আমেরিকায় যাওয়ার পর আলম নিজে কিছুদিন কাজ করেছে। এরপর সে আমাকে কাজ করার কথা বলে এবং সে পড়াশোনা শুরু করে। আমিও সেটা মেনে নিয়েছিলাম। আমি ড্রাইভিং জানি না। তারপরও সংসার সামলে কাজ আমি করতাম। কিন্তু হঠাৎ অনুমান করতে পারি, আমার হাজবেন্ড অন্য কারো সঙ্গে কথা বলছে।

আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে অস্বীকার করে। একদিন গাড়িতে আমি আর আলম ছিলাম তখন সেই মেয়ে, মানে যার সঙ্গে আমার হাজবেন্ড গোপনে কথা বলত সে ভাইবারে ফোন দেয়। আমার হাজবেন্ড সেই মেয়ের নাম জোনায়েদ দিয়ে সেভ করে রেখেছিল। পরে আমি বুঝতে পারি কে সেই মেয়ে! তাঁকে আমি চিনি, কিন্তু তাঁর নাম বলতে চাই না। সে পেশায় একজন চিকিৎসক। বিবাহিত।

এখন মালয়েশিয়ায় প্রবাসী সে। একসময় এনটিভিতে স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনাও করত সে। আমার আর আলমের সুখের সংসার ছিল। হঠাৎ ওই মেয়ে আলমের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা শুরু করলে আমার আর আলমের মধ্যে সমস্যা দেখা দেয়। বন্ধুত্ব এক জিনিস। গোপনে কথা বলা অন্য জিনিস। বন্ধু হলে লুকিয়ে কেন কথা বলবে? এসব বলতে গেলে আলম আমার গায়ে হাত তোলে।

পরে আমাদের পরিবার দুজনের সমস্যা শোনার পর সমাধান করার চেষ্টা করে। গত বছর আলম ভার্সিটির কাজের কথা বলে দেশে ফেরে। আমি আমার সন্তানদের নিয়ে আমেরিকায় থাকি। কিন্তু আলম আর আমেরিকায় ফিরে যায় না। পরে আমি গত বছর নভেম্বরে দেশে ফিরি। আলম তখন আমাকে বলেছিল, ‘তুমি আমেরিকায় ফিরে যাও। সেখানকার সরকারের দেওয়া আমার সন্তানদের অর্থ তুলো। তারপর সেই অর্থ দিয়ে আমি তোমাদের টিকেট পাঠাব। তোমরা দেশে ফিরবা।’

আমার সন্তানরা আমেরিকার সিটিজেন। সেখানে সরকারের কাছ থেকে তারা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পায়। যাহোক, আলমের কথা বিশ্বাস করে সন্তানসহ আমি আমেরিকায় আবার চলে যাই। এদিকে, এর মধ্যে আমাকে না জানিয়ে আলম আমেরিকায় আসে এবং সন্তানদের সেই অর্থ (ছয় হাজার ডলার) ব্যাংক থেকে তুলে নিয়ে সে দেশে ফিরে আসে। এটা আমি ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারি। এরপর আমি গত মাসে আমেরিকা থেকে ঢাকায় আসি। বনশ্রীতে আলমদের বাসায় যাই।

কিন্তু সেই বাসায় আমাকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। আলম তার বাবাকে জানিয়েছে, আমাদের বিয়ের এক বছর পর আলম নাকি বুঝতে পেয়েছে আমি ভালো নই। তখন নাকি তার বাবা বলেছে, ‘তাহলে এক বছর পর বিচ্ছেদ চাওনি কেন?’ যাহোক, সেদিন মানে ২৬ জুন বাসায় না ঢুকতে পেরে আমি খিলগাঁও থানায় নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা করি। মামলা এখনো চলছে।

আমার কথা আমাকে ডিভোর্স দেবে, সেটা তো আমার সঙ্গে কথা বলে নেবে। আমি তাঁর বাচ্চাদের মা। আমাকে জানাবে তো! আমি তো সংসার করব বলেই মিডিয়া ছেড়ে দিয়েছিলাম। সুখেই সংসার করছিলাম। আলমকে নিয়ে আমি খুব সুখে ছিলাম। আলমের সম্পর্কে আমার কোনো অভিযোগও ছিল না। শুধু মালয়েশিয়াপ্রবাসী ওই মেয়ের জন্য এসব হচ্ছে। অথচ এই মেয়ে যখন ঢাকায় ছিল, তখন আলম পাত্তাই দিত না।

আলম বলেছে, তার মায়ের চিকিৎসা করার জন্য মালয়েশিয়ায় গেলে সেই মেয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এটা সত্য নয়। তার মায়ের চিকিৎসা হয়েছিল সিঙ্গাপুরে। আমার সবশেষ কথা সে সুন্দর হলে আমিও সুন্দর হব। সে নোংরামি করলে আমিও নোংরামি করব। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে বিয়ে করেছেন শ্রাবন্তী ও খোরশেদ আলম। তাদের সংসারে দুটি কণ্যা সন্তান রয়েছে।